রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৪

কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের(বিজিবি)৬ সদস্য আহত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের(বিজিবি)৬ সদস্য আহত হয়েছেন।
এদের মধ্যে সুবেদার মহিউদ্দিন, ল্যান্স নায়েক শফিউল ইসলাম ও সিপাহী আব্দুল হালিমসহ ৪ জনকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে(সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে।
হেলিকপ্টারযোগে রোববার সকাল ৮টার দিকে তাদের ঢাকায় আনা হয়।
রোববার ভোরে কুষ্টিয়া শহরতলীর মঙ্গলবাড়িয়ার কা
নাবিলির মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কুষ্টিয়া বিজিবি সেক্টরের জিএসওটু মেজর মোঃ তারেক মাহমুদ সরকার জানান, রোববার রাতে পাশ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আটককৃত অবৈধ মালামাল নিয়ে কুষ্টিয়া সেক্টর মিরপুরে ফেরার পথে ভোর রাত ৫ দিকে কুষ্টিয়া শহরতলী কুষ্টিয়া-পাবনা সড়কের জুগিয়া-পালপাড়া নামক স্থানে পিক-আপ ভ্যানটির (নং কুষ্টিয়া-ঠ ১১-০০১১) টায়ার বিষ্ফোরন ঘটে একটি গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে ঐ গাড়ীতে থাকা কুষ্টিয়া বিজিবি সেক্টরের সুবেদার মহিউদ্দিন (৬৫), নায়েক মিজানুর রহমান (৪৫), ল্যান্স নায়েক আব্দুল হালিম (৩৫), ল্যান্স নায়েক ওবায়দুর রহমান (৩৮), ল্যান্স নায়েক শফিকুল ইসলাম (৩৯) ও ল্যান্স নায়েক সিরাজুল ইসলাম (৩৫) আহত হন। তাৎনিক তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় সুবেদার মহিউদ্দিন, ল্যান্স নায়েক আব্দুল হালিম, ল্যান্স নায়েক ওবায়দুর রহমান ও ল্যান্স নায়েক শফিকুল ইসলামকে ভোরেই হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার সিএমএইসে রেফার্ড করা হয়। নায়েক মিজানুর রহমান ও ল্যান্স নায়েক সিরাজুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনা কবলিত বিজিবির পিক-আপ ভ্যানটি দুমড়ে মুচড়ে গেছে।

দৌলতপুরে বায়েজিদ ম্যাচে আগুনে পুড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা ঃ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা এলাকার বায়েজিদ ম্যাচ ফ্যাক্টরীতে আগুনে ঝলসে যাওয়া শ্রমিক আব্দুস সাত্তার (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে মারা গেছে। সে পাশ্ববর্তী সোনাইকুন্ডি লস্করপাড়া গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে।
বায়েজিদ ম্যাচ ফ্যাক্টরী কর্তৃপ ও প্রত্যদর্শীরা জানায়, গত ১৩ এপ্রিল বায়েজিদ ম্যাচ ফ্যাক্টরীতে অসাবধানতাবশত বারুদ থেকে আগুন লেগে গেলে শ্রমিক আব্দুস সাত্তারের শরীর ঝলসে যায়। ফ্যাক্টরী কর্তৃপ তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করে। ৬ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার ভোরে মারা সে মারা যায়। স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার বিষয়টি বায়েজিদ ম্যাচ ফ্যাক্টরী কর্তৃপ গোপন রেখে আব্দুস সাত্তার কে গোপনেই চিকিৎসা করাচ্ছিল। তাছাড়া ফ্যাক্টরী কর্তৃপরে উদাসীনতার কারণে প্রায়ই অগ্নিকান্ড ও প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে।

দৌলতপুরে কলেজ ছাত্রীকে উত্যাক্তের প্রতিবাদ করায় বখাটের হামলায় আহত ৫

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা ঃ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃঞ্চপুর ইউনিয়নের ভাগজোত এলাকায় এক কলেজ ছাত্রীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বখাটেদের হামলায় কলেজ ছাত্রীর খালু সহ ৫ জন আহত হয়েছে। আহতরা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যদর্শীরা জানায়, ভাগজোত বাজার এলাকার ছেন্টু আলীর কন্যা ও বাগোয়ান গার্লস কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর ছাত্রী লাবনী কে একই এলাকার বখাটে মামনু, মিঠুন, রিংকু, জামরুল ও তাদের সহযোগীরা কলেজে যাওয়া আসার পথে বিভিন্নভাবে উত্যাক্ত করত। এ ব্যাপারে রবিবার সকাল ৯ টার দিকে লাবনীর খালু আলেক মন্ডল প্রতিবাদ করলে ঐ বখাটেরা হাত কুড়াল ও ধারালো অস্ত্রদিয়ে আলেক কে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় আলেকের স্বজনরা এগিয়ে আসলে তাদের ওপরও বখাটেরা হামলা চালায়। এতে আলেক মন্ডল (৪২) মইদুল (৩৫) হানিফ (৩২) হান্নান (৩৫) সহ ৫ জন আহত হয়। এদের মধ্যে আলেক ও হানিফকে আশংকাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানায় মামলা হয়েছে।


কুমারখালীতে তরমুজ খেয়ে ২ শিশু’র মৃত্যু ॥ ৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি

 স্টাফ রিপোর্টার ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তরমুজ খেয়ে স্মৃতি (৯) ও অনিক (১১) নামের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একই পরিবাবের ৮ জনসহ কমপে ৩৪ জনকে অসুস্থ্য অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টায় কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের কালুয়া গ্রামে তরমুজ খেয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত স্মৃতি কালুয়া গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে এবং অনিক একই গ্রামের আসকর আলীর ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, কালুয়া গ্রামের আসকর আলী ঢাকা থেকে ফেরার পথে কুমারখালী বাসষ্ট্যান্ড থেকে তরমুজ কিনে বাড়িতে নিয়ে যায় এবং ওই তরমুজ তার পরিবার ও নিকটতম প্রতিবেশীরা এক সঙ্গে খায়। এর কিছুণ পরই তারা সবাই অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। তাৎনিকভাবে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসার এক পর্যায়ে আশরাফ আলীর শিশু কন্যা স্মৃতি মারা যায়। গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় আসকর আলীর ছেলে অনিক (১১) কে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়।
এছাড়াও অসুস্থ্যদের মধ্যে ফারুক (৯), মারুফ (১১), মিম (৯), জীম (৬), নিহারুল (৭০), ইসলাম আলী শেখ (৬০), রেখা (২২), ঝন্টুসহ (৩০) ৩৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশাংকাজনক বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডাঃ সালেক মাসুদ এ ব্যাপার জানান, ধারণা করা হচ্ছে ব্যবসায়ীরা তরমুজ পাকানোর জন্য তরমুজে কোন কেমিকেল দেওয়ার ফলে তার বিষক্রিয়ার কারণে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে। অথবা অন্য কোন খাদ্য গ্রহণের ফলেও এমনটি ঘটে থাকতে পারে, তবে প্রকৃত রহস্য পরবর্তীতে জানা যাবে।