পর্দার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাএম খালিদ হোসাইন সিপাহী
নারীকে হাদীস শরীফে ‘আওরত’ বলা হয়। আওরত শব্দের অর্থ – গুপ্ত বা আবৃত। সুতরাং নারীর নামেই বুঝা যায় – নারীর জন্য পর্দা আবশ্যকীয়। পারিপার্শ্বিকতার বিবেচনায় বিবেকের দাবীও তাই। তেমনি শরীয়তে নারীর জন্য পর্দাকে ফরজ করা হয়েছে।
পবিত্র কুরআনে পর্দার নির্দেশ
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন : “(হে নারীগণ!) তোমরা তোমাদের ঘরের (বাড়ীর চতুর্সীমানার) ভিতর অবস্থান কর এবং বাইরে বের হয়োনা – যেমন ইসলামপূর্ব জাহিলী যুগের মেয়েরা বের হত।” (সূরাহ আহযাব, আয়াত : ৪৩)
আল্লাহ তা‘আলা আরো ইরশাদ করেন : “(হে নবী!) আপনি আপনার পত্মীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, যখন কোন প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হয়, তখন তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। (যেন পর্দার ফরজ লংঘন না করে। এমনকি চেহারাও যেন খোলা না রাখে। তারা যেন বড় চাদরের ঘোমটা দ্বারা নিজেদের চেহারাকে আবৃত করে রাখে।) ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ মাশীল পরম দয়ালু। (সূরাহ আহযাব, আয়াত : ৬০)
আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র ইরশাদ করেন : “মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হিফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা রয়েছে। নিশ্চয় তারা যা করে, আল্লাহ তা অবহিত আছেন। আর ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হিফাজত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান – তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের ওড়না বদেশে দিয়ে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক, অধিকারভুক্তবাদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক – যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে।” (সূরাহ নূর, আয়াত : ৩০ – ৩১)
হাদীস শরীফে পর্দার নির্দেশ
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন – “যে সতর দেখবে এবং যে দেখাবে, তাদের উপর আল্লাহ লা‘নত করেন।” (বাইহাকী)
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো ইরশাদ করেন – “স্ত্রীজাতির পর্দায় গুপ্ত থাকার সত্তা। কিন্তু যখনই তারা পর্দার বাহিরে আসে, তখন শয়তান তাদের দিকে ঝুঁকে।” (তিরমিযী)
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো ইরশাদ করেন – “খবরদার! কোন পুরুষ যেন কোন মেয়েলোকের সাথে একাকী না থাকে। কেননা, যখনই কোন পুরুষ কোন মেয়েলোকের সাথে একাকী হয়, তখনই শয়তান তাদের তৃতীয়জন হয়ে যায় এবং তাদের পিছনে লাগে।” (তিরমিযী)
নবীজী (সা.) আরো ইরশাদ করেন – “মেয়েরা যখন বালিগা হয়ে যায়, তখন তাদের শরীরের কোন অংশ দেখা বা দেখানো জায়িয নয়। অনেক কাপড় পরিধানকারিণী (পাতলা কাপড়ের কারণে) কিয়ামতের দিন উলংগ সাব্যস্ত হবে।
ফিকহের আলোকে পর্দার হুকুম
ফিকহের মাসআলা হল, মেয়েদের জন্য পর্দা করা ফরজ। গাইরে মাহরাম পুরুষের সামনে সে পর হোক বা আপন হোক, মেয়েদের একটি চুলও উন্মুক্ত রাখা জায়িয নয়। তেমনিভাবে মেয়েলোকদের জন্য কোন মেয়েলোকের সামনে হাটু হতে নাভী পর্যন্ত উন্মুক্ত করা জায়িয নয়।
গর্ভকালে বা প্রসবকালে অথবা অন্য কোন কারণে যদি ধাত্রী দ্বারা পেট মালিশ করার দরকার পড়ে, তবে নাভীর নীচের কোন অংশ খোলা যাবে না। কোন কাপড় রেখে তার উপর দিয়ে মালিশ করবে। বিনা প্রয়োজনে সতর ধাত্রীকে দেখানোও জায়িয নয়। সাধারণত কোন মেয়ের পেট মলবার সময় মা, বোন, খালা, ফুফু, দাদী, নানী, ননদ এবং বাড়ীর অন্যান্য লোকেরাও দেখে থাকে, এটা জায়িয নয়।
প্রত্যেক গাইরে মাহরাম পুরুষের প্রত্যেক গাইরে মাহরাম স্ত্রীলোকের সামনে যে পরিমাণ পর্দা করা ফরজ, কাফির-ফাসিক মেয়েলোক হতেও মুমিন মেয়েদের সে পরিমাণ পর্দা করা ওয়াজিব।
সুতরাং হিন্দু বা খৃষ্টান মেয়েলোক বা যেকোন বেদ্বীন বা বেপর্দা মেয়ে হতেও পর্দানেশীন নারীর পর্দা করা ওয়াজিব। তাদের সামনে কেবলমাত্র মুখম-ল, হাতের পাতা ও পায়ের পাতা ব্যতীত শরীরের কোন অংশ খোলা রাখা জায়িয নয়।
ধাত্রী যদি অমুসলিম মহিলা হয়, তবে শুধু জরুরী স্থান ব্যতীত হাতের বাজু, পায়ের নলা, মাথা বা গলা তাকে দেখালে গুনাহগার হবে।
মেয়েদের জন্য নতুন বর বা ভিন্ পুরুষদেরকে সামনাসামনি অথবা বেড়ার ফাঁক দিয়ে কিংবা ছাদে উঠে বা জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে দেখা জায়িয নয়। তেমনিভাবে পুরুষদের জন্য বেগানা মেয়ে বা নতুন বউ দেখা জায়িয নয়।
স্ত্রীলোকদের নিজের পীরকেও দেখা দেয়া জায়িয নয়। তেমনি ধর্মবাপ, ধর্মভাই, উকিল বাপ, খালু, দুলাভাই, দেবর, ভাসুর, বেয়াই, নন্দাই, চাচাতো ভাই, মামাতো ভাই, খালাতো ভাই, খালাশ্বশুর, চাচাশ্বশুর ইত্যাদি গাইরে মাহরাম আত্মীয়দের সাথে দেখা দেয়া জায়িয নয়।
চুড়ি বিক্রেতা পুরুষতো দূরের কথা, বেদ্বীন স্ত্রীলোকের হাতে, এমনকি যে সকল মুসলিম মহিলা বেপর্দায় চলে, তাদের হাতেও চুড়ি পরা জায়িয নয়।
তেমনিভাবে বেগানা পুরুষের সাথে কখনো কোথাও আসা-যাওয়া করা বা দেখা দেয়া দুরস্ত নয়।
(ফাতাওয়া আলমগীরী)
মহিয়সী নারীদের সংগ্রামী জীবন কাহিনী উম্মুল মু’মেনীন হযরত উম্মে হাবীবা (রা:)
তার নাম ছিল রামলা। এ নামেই প্রসিদ্ধ। কারো কারো মতে তার নাম ছিল হিন্দ। কিন্তু নামের তুলনায় কুন্ইয়াত বা ডাক নাম উম্মে হাবীবা বেশি পরিচিত। তার মাতা ছিলেন ছফিয়া ইবনেতে আবিল আছ। ইনি ছিলেন হযরত ওসমান (রা:) এর ফুফী। তার পিতার নাম ছিল আবু সুফিান ছখর ইবনে হারব ইবনে উমাইয়্যা ইবনে আবদে শামস।
নবীজীর নবুয়্যাত লাভের ১৭ বৎসর পূর্বে তার জন্ম হয়। ওবায়দুল্লাহ্ ইবনে জাহাশ ইবনে রুবাবের সাথে তার প্রথম বিযয়ে হয়। তিনি ছিলেন বনু আসাদ ইবনে খোযায়মা খান্দানের লোক এবং হারব ইবনে উমাইয়্যার বন্ধু।
হিজরত ও ইসলাম গ্রহণ
স্বামীর সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং হাবশায় হিজরত করেন। এখানে পৌঁছলে ওবায়দুল্লাহর ঔরসে তার কন্যা সন্তান হাবীবার জন্ম হয়। এ কন্যার নামেই তিনি উম্মে হাবীবা বলে খ্যাত হন। কিছুদিন পর স্বামী ওবায়দুল্লাহ্ ইসলাম ত্যাগ করে খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেন। তার ধর্ম ত্যাগের পূর্বে হযরত উম্মে হাবীবা তাকে অত্যন্ত বীভৎস আকৃতিতে স্বপ্নে দেখেন। এ স্বপ্নের ফলে তিনি খুব ঘাবড়ে যান এবং মনে মনে বলেন, সত্যিই তার অবস্থা খারাপ বলে মনে হচ্ছে। ভোরে ওবায়দুল্লাহ তাকে বললেন, উম্মে হাবীবা! ধর্মের ব্যাপারে চিন্তা করে বুঝলাম খ্রীষ্টবাদের চেয়ে উত্তম ধর্ম নেই। আমি ইতোপূর্বে মুসলমান হলেও এখন পুনরায় খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহন করছি। হযরত উম্মে হাবীবা খুব তিরস্কার করলেন, স্বপ্নের কথাও বললেন। কিন্তু তার ওপর কোন প্রভাব পড়লোনা কোন প্রতিক্রিয়া হলো না। শেষ পযর্ন্ত তিনি খ্রীষ্টধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্মত্যাগীর জীবন যাপন করে মদ্যপান অবস্থায় মৃত্যু বরন করেন।
দ্বিতীয় বিয়ে স্বামীর ধর্ম ত্যাগের পর উম্মে হাবীবা হাবশায় নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছিলেন। ইদ্দত পূর্ণ হলে মহানবী বিয়ের পয়গাম নিয়ে আমর ইবনে উমাইয়া যামরীকে হাবশার বাদশা নাজ্জাশীর নিকট প্রেরণ করেন। তার পৌঁছা মাত্রই নাজ্জাশী স্বীয় দাসী আবরারার মাধ্যমে উম্মে হাবীবার নিকট রাসুলের বিয়ের পয়গাম পৌঁছান। তিনি একথাও মুখে বলে দেন যে, মহানবী তোমার বিয়ের জন্য আমার কাছে লিখেছেন। বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য তুমি কাউকে উকীল নিযুক্ত কর। নবীজীর প থেকে বিয়ের পয়গামের কথা শুনে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হয় আবরাহাকে দু’টি রূপার চুড়ী, পায়ের দুটি মল এবং দু’টি রূপার আংটি দান করেন। খালেদ ইবনে সাঈদকে এ সম্পর্কে অবহিত করে তাকে উকীল নিযুক্ত করেন। সন্ধ্যা হলে নাজ্জাশী স্থানীয় মুসলমান এবং জাফর ইবনে আবু তালেবকে ডেকে নিজে বিবাহ পড়ান। মোহরানার চারশ’ দীনারও নিজের প থেকে খালেদ ইবনে সাঈদকে দেন। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে সকলে খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলে খালেদ ইবনে সাঈদ দাড়িয়ে সকলের উদ্দেশ্য বলেন, বিবাহ উপল্েয খাওয়ার আয়োজন করা আম্বিয়ায়ে কিরামের সুন্নাত। অতঃপর সকলকে ভোজে আপ্যায়িত করে বিদায় দেন।
এ বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে হিজরী ৬ বা ৭ সালে। তখন উম্মে হাবীবার বয়স ৩৬/৩৭ হবে। বিয়ের পর হাবশা থেকে জাহাজ যোগে রওয়ানা হন। জাহাজ এসে মদীনার বন্দরে ভিড়লো। নবীজী তখন খায়বরে অবস্থান করছিলেন।
তবকাত এবং মুসনাদ ইত্যাদি নিভর্রযোগ্য জীবন চরিত গ্রন্থ থেকে বিয়ের বর্ণনা গৃহীত হয়েছে। বর্ণনার সত্যতা সর্ম্পকে কোন প্রশ্নেই উঠতে পারে না। কিন্তু এ বিবাহে মোহরানার পরিমাণ সম্পর্কে রেওয়ায়েত ঠিক বলে মনে হয় না। আল্লামা ইবনে আবদুল বার, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল এসব বিশেষজ্ঞরা নির্ভরযোগ্য সূত্রে লিখেছেন যে, আযওয়াজে মুতাহহারাত এবং নবী দুলালীদের মোহর ছিল চারশ’ দিরহাম। এ ব্যাপারে তেমন মতবিরোধ নেই। এ কারণে মোহরের পরিমাণ নির্ভরযোগ্য নয় বলে মনে হয়।
চরিত্র মাধুর্য ঃ
হযরত উম্মে হাবীবা ছিলেন বড় মযবুত ঈমানের অধিকারী মহিলা। এ ব্যাপারে তিনি কারো কোন পরোওয়া করতেন না, তা সে যতবড় বন্ধু এবং আত্মীয়ই হোকনা কেন। তার পিতা আবূ সুফিয়ান ইসলাম গ্রহণের আগে মহানবীর দরবারে মদীনায় হাযির হন সন্ধির মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যাপারে আলোচনা করার জন্য। এ সময় তিনি স্বীয় কন্যা উম্মে হাবীবাকেও দেখতে পান এবং হযরতের বিছানা মোবারকে বসতে উদ্যত হলে হযরত উম্মে হাবীবা তা গুটিয়ে দেন। নবীজীর বিছানায় পিতার বসাও তিনি বরদাশ্ত করতে পারেননি। এতে আবূ সুফিয়ান অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন, কন্যা! তোমার কাছে বিছানাটাই প্রিয় যে, তুমি আমার মুখের দিকেও তাকালেনা? জবাবে তিনি বললেন, পিতা! এটা রাসূলুল্লাহ্ (সা:) এর বিছানা। আপনি যেহেতু মুশরেক, তাই নাপাক। আবূ সুফিয়ান বললেন, আমার পর তুমি অনেক অকল্যাণে জড়িয়ে পড়লে।
হাদীসের ওপর আমল করার ব্যাপারে তিনি ছিলেন কঠোর। এ জন্য অন্যদেরকেও তাকীদ করতেন। একবার তার ভাগ্নে আবূ সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আসেন। তিনি ছাতু খেয়ে কুলী না করলে বললেন, তোমার কুলী করা উচিত ছিল। কারণ নবীজী বলেছেন, আগুনে পাকানো জিনিস খেলে অযু করতে হয়। তিনি মহানবীর নিকট শুনেছিলেন, যে ব্যক্তি দৈনিক ১২ রাকাত নফল নামায পড়ে, তার জন্য জান্নাতে ঘর তৈরী করা হবে। হুজুরের এ বাণী তিনি নিষ্ঠার সাথে নিয়মিত পালন করতেন। এ সর্ম্পকে তিনি নিজেই বলেন, অতঃপর আমি নিয়মিত ১২ রাকায়াত নামায পড়তাম।
তার পিতা আবূ সুফিয়ানের ইন্তিকাল হলে খোশবু চেয়ে নিয়ে চেহারা এবং বাহুতে মাখেন এবং বলেন, ঈমানদার নারীর জন্য তিন দিনের বেশি শোক করা জায়েজ নেই, অবশ্য স্বামী ছাড়া। স্বামীর জন্য স্ত্রীর শোক করার মেয়াদ হচ্ছে চার মাস দশ দিন। নবীজীকে একথা বলতে না শুনলে এ ব্যাপারে আমার কোন খবরই ছিল না।
ওফাত ঃ হিজরী ৪৪ সালে আমীর মু’আবিয়ার (রা:) শাসনামলে ৭৩ বৎসর বয়সে তিনি ইনতিকাল করেন এবং মদীনা শরীফে তাকে দাফন করা হয়। ইনতিকালের পূর্বে হযরত আয়েশাকে ডেকে বললেন, আমার এবং আপনার মধ্যে সতীনের মতো সর্ম্পক ছিল। কোন ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে মাফ করে দেবেন এবং আমার মাগফেরাতের জন্য দোয়া করবেন। হযরত আয়েশা দোয়া করে বললেন, আপনি আমাকে খুশি করেছেন, আল্লাহ্ আপনাকে খুশি করুন।
তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিজ্ঞ এবং বহুগুণের অধিকারীণী। হাদীস শাস্ত্রে তার কয়েকজন শাগরেদ ছিলেন এবং বলা হয়ে থাকে, তার কাছ থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ৬৫। নবীজী এবং উম্মুল মুমেনীন হযরত যয়নব ইবনেতে জাহাশ থেকে তিনি এ হাদীসগুলো বর্ণনা করেন। যারা তার কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনের নাম এখানে উল্লেখ করা হলো ঃ
হাবীবা ইবনেতে ওবায়দুল্লাহ, মুয়াবিয়া ইবনে আবূ সুফিয়ান, আকীলা ইবনেতে আবূ সুফিয়ান, আবদুল্লাহ ইবনে ওতবা ইবনে সুফিয়ান, আবূ সুফিয়ান ইবনে সাঈদ ইবনুল মুগীরা, সালেম ইবনে সেওয়ার ইবনুল জারারহ্, ছফিয়াহ ইবনেতে শায়বা, যয়নব ইবনেতে উম্মে সালমা, ওরওয়া ইবনে যুবাইর, আবূ ছালেহ সাম্মান প্রমুখ।
তার কবর সর্ম্পকে একটি বিস্ময়কর বর্ণনা রয়েছে। আল-এস্তীআব গ্রন্থ রচয়িতা লিখেছেন যে, যয়নুল আবেদীন (রা:) তার গৃহের একাংশ খনন করলে একটা শিলালিপি পাওয়া যায়। এতে লেখা ছিল ঃ هذا قبر رملة بنت صخر.
এটা রামলা ইবনেতে ছাখর এর কবর। তিনি এটা দেখে শিলালিপিটি যথাস্থানে রেখে দেন। এ থেকে জানা যায় যে, তার কবর ছিল হযরত আলীর (রাঃ) ঘরে।
কুরআন-হাদিসের আলোকে শাহাদাত
হাবীবুল্লাহ
মহান আল্লাহ তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করার জন্য, অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখানোর জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাদের একমাত্র মিশন ও ভিশন ছিল আল্লাহর যমীনে তারই আইন প্রতিষ্ঠা করা। আর এই আইন প্রতিষ্ঠার কাজে শুধু নবী-রাসূলগণ নয় তাদের অনুসারীরা সারা জীবন এপথেই ব্যয় করেছেন। এরই পথ ধরে শেষ ও নবী (সাঃ)-এর এমন একজন সাহাবী ও পাওয়া যাবেনা যারা জীবন ভর দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে লিপ্ত ছিলেন। আর আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করতে গেলে হক বাতিলের সংঘর্ষ আনির্বায। এই অনিবার্য সংঘর্ষে আল্লাহর বাণী সমূন্নত করতে গিয়ে যারাই তাদের সবচেয়ে মূল্যবান প্রাণটা দিয়ে দিবে তারাই শহীদ হিসেবে গণ্য হবে। শাহাদাতের গুরুত্ব ইসলাম শাহাদাতের মৃত্যুকে সবচেয়ে মর্যাদাবান মৃত্যু বলা হয়েছে। আর
এই শাহাদাতের অমীয় পানি তারাই পান করতে পারবে যাদেরকে আল্লাহ তার অসংখ্য বান্দাদের মধ্য থেকে বাছাই করবেন। এই সুমহান মর্যাদার অধিকারী একমাত্র প্রভুর প্রিয় বান্দাদের ভাগ্যেই জুঁটবে। পবিত্র কুরআনে অসংখ্য আয়াতে শাহাদাতের গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ তার মহাগ্রন্থে বারবার বলেছেন, “তোমরা আল্লাহর বাস্তায় জিহাদ কর।” এভাবে তিনি বলেন, “তোমাদের উপর জিহাদ ফরজ করা হয়েছে অথচ স্বাভাবিক ভাবেই তোমাদের নিকট তা কষ্টকর মনে হতে পারে। হতে পারে তোমরা কোন বস্তুকে অপছন্দ কর অথচ তা তোমাদের জন্য ভালো। আবার এমনও হতে পারে কোন বস্তুকে তোমরা ভালোবাস অথচ তা তোমাদের জন্য ভালো নয়। বস্তুত : আল্লাহই জানেন এবং তোমরা জান না” । (বাকারা- ২১৬ )মহান আল্লাহ তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করার জন্য, অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখানোর জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাদের একমাত্র মিশন ও ভিশন ছিল আল্লাহর যমীনে তারই আইন প্রতিষ্ঠা করা। আর এই আইন প্রতিষ্ঠার কাজে শুধু নবী-রাসূলগণ নয় তাদের অনুসারীরা সারা জীবন এপথেই ব্যয় করেছেন। এরই পথ ধরে শেষ ও নবী (সাঃ)-এর এমন একজন সাহাবী ও পাওয়া যাবেনা যারা জীবন ভর দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে লিপ্ত ছিলেন। আর আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করতে গেলে হক বাতিলের সংঘর্ষ আনির্বায। এই অনিবার্য সংঘর্ষে আল্লাহর বাণী সমূন্নত করতে গিয়ে যারাই তাদের সবচেয়ে মূল্যবান প্রাণটা দিয়ে দিবে তারাই শহীদ হিসেবে গণ্য হবে। শাহাদাতের গুরুত্ব ইসলাম শাহাদাতের মৃত্যুকে সবচেয়ে মর্যাদাবান মৃত্যু বলা হয়েছে। আর
এছাড়া তিনি আরো বলেছেন যে, “তিনি মুমিনদের জান ও মালের বিনিময়ে জান্নাত দিবেন, আর তার আল্লাহর বাস্তায় জিহাদ করে শহীদ হবে।” (তওবা- ১১১)
এভাবে তিনি সূরা আছ্ ছফ-এ আল্লাহর রাস্তায় নিজের জান-মাল বিলিয়ে দেয়াকে এমন এক ব্যবসার সাথে তুলনা করেন যা শাহীদদের জাহান্নামের কঠিন আযাব থেকে রক্ষা করে চিরস্থায়ী শান্তির নীড় জান্নাতে প্রবেশ করাবে। এছাড়া সূরা নিসার ৯৫ ও ৯৬ নং আয়াতে যারা আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হন তাদেরকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন সেইসব লোকদের উপর যারা বিনা ওজরে আল্লাহর রাস্তায় ঝাপিয়ে পড়ে না।
অপরদিকে আমরা যদি রাসূল (সাঃ)-এর জীবনের দিকে তাকাই তাহলে দেখব যে, তিনি কাফেরদের বিরুদ্ধে অসংখ্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তাতে অসংখ্য সাহাবা শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করে জান্নাতবাসী হয়েছেন।
শাহাদাতের গুরুত্বের ব্যাপারে তিনি বলেছেন, “আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-এর উপর ঈমান আনায়নের পরই আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়া সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ”। (বুখারী)
আবু হুরায়রা থেকে বুখারী-মুসলিম)
ইবনে মাসউদ থেকে অন্য হাদিসে এসেছে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে শহীদ হওয়া আল্লাহর নিকট প্রিয় আমলের অন্তর্ভূক্ত। (মুত্তাফাকুন আলাইহি)
একবার একজন লোক রাসূল (সাঃ)-এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলেন, “সর্বশ্রেষ্ঠ মানব কে? জবাবে তিনি বললেন এমন মুজাহিদ যিনি নিজের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে।” (মুত্তাফাকুন আলাইহি)
শাহাদাতের অমীয়সূধা পান করার জন্য তিনি শুধু সাহাবীদেরকে উৎসাহিত করেছেন এমন নয়। তিনি নিজেও সর্বদা শাহাদাতের তামান্নায় উদ্বেলিত থাকতেন। সর্বদা তিনি শহীদি মৃত্যু কামনা করতেন।
তাইতো শাহাদাতের অদম্য স্পৃহায় তিনি বলতেন, “সেই সত্ত্বার শপথ যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, আমি যেন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করি এরপর শহীদ হই, আবার জিহাদ করি আবার শহীদ হই, আবার জিহাদ করি আবার শহীদ হই।” (আবু হুরায়রা থেকে মুসলিম)
জিহাদের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন,“আমি কী তোমাদেরকে সকল কাজের মূল, কান্ড ও সর্বোচ্চ চূড়ার কথা বলব না? সাহাবীরা বলেন, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বলেন সকল কাজের মূল হলো ইসলাম আর এর কান্ড হলো সালাত এবং সর্বোচ্চ চূড়া হলো আল্লাহর রাস্তায় প্রাণ বিসর্জন।” ( মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে তিরমিযি)
শাহাদাতের মহত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, নিশ্চয় তরবারির ছায়াতলেই রয়েছে জান্নাত।” (আবু বকর ইবনে আবু মুসা থেকে মুসলিম)
উহুদ যুদ্ধের সময় উমাইর ইবনে হুমাম আল আনসারী সাহাবী খেজুর খাচ্ছিলেন, রাসূল (সঃ) আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়ার গুরুত্ব বর্ণনা করছিলেন এমন সময় সাহাবী বললেন আমি যদি শহীদ হই তাহলে আমি কোথায় যাব? রাসূল (সাঃ) বললেন, জান্নাতে মূহুর্তের মধ্যেই সে খেজুর ফেলে দিয়ে জিহাদে শরীক হয়ে শাহাদাত বরণ করলেন। (জাবের থেকে মুসলিম)
একদিন রাসূল (সাঃ) জিহাদের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে বনী লিহযান গোত্রেকে বললেন, “প্রত্যেক দু‘জনের মধ্যে একজনকে জিহাদে গমন করতে হবে তবে পূণ্য তারা দু‘জনই পাবে।” (আবু সাইদ খুদরী থেকে মুসলিম)
শাহাদাতের তাৎপর্য এতোই বেশী যে, “কেউ যদি শাহাদাতের তামান্না নিয়ে নিজের ঘরেও মৃত্যবরণ করে তাহলে ও সে শহীদ হিসেবে গণ্য হবে।” (সাহল ইবনে হুনাইফ এবং আনাস থেকে মুসলিম)
শাহাদাত মুমিন জীবনের অবিছেদ্য অংশ, প্রকৃত মুমিনতো তারই যারা শাহাদাতের অমীয়সূধা পানে সর্বদা প্রস্তুত। প্রস্তুত জীবনবাজি রেখে আল্লাহর যমীনে আল্লাহর সংবিধান প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায়।
শাহাদাতের মর্যাদা
পবিত্র কোরআনে ও হাদীসে শাহাদাতের যে সর্যদার কথা বলাহয়েছে তা থেকে চুলপরিমানও পিছপা হয়ে একজন মুমিন কখনো শাহাদাাত ব্যতিত অন্য মৃত্য কামনা করতে পারে না। শাহাদাত হলো মুমিন জীবনের চরম চাওয়া ও পাওয়া।
পবিত্র কুরআনে বলেছে, “যারা আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাত বরণ করেছেন তারেদ জন্য রয়েছে মহান পূরস্কার” (আলে-ইমরান- ১৭২)
অন্যত্র শাহাদাতের মর্যদা বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, “তারা যদি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয় অথবা মৃত্যবরণ করে তাহলে তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে ক্ষমা ও রহমত।”(বাকারা-১৫৪)
আল্লাহর রাস্তায় শহীদগণের জন্য তিনি জান্নাত অবধারিত করে দিয়েছেন। এমন মর্যাদা শুধু তাদের ভাগ্যেই জুঁটবে যারা জীবনের সকল মায়া-মহবক্ষত ত্যাগ করে নিজেদেরকে আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিবেন। আল্লাহর ঘোষণা, “তাদের প্রভু তাদেরকে এই বলে সাড়া দিয়েছেন যে, আমি তোমাদের পুরুষ বা মহিলা কারো শ্রমের বিনিময় নষ্ট করব না। তারা তো ঐ সব লোক যারা হিজরত করেছে এবং তাদেরকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে এবং তারা আমার রাস্তায় লড়াই করে শহীদ হয়ে আমি তাদেরকে সকল গুনাই অবশ্যই ক্ষমা করব এবং তাদেরকে বহমান নদী বিশিষ্ট জান্নাতে প্রবেশ করাব।” (আলে-ইমরান- ১৯৫)
অপর স্থানে আল্লাহ বলেন, “যারা আখেরাতকে দুনিয়ার বিনিময় ক্রয় করছে এবং শহীদ হয়েছে অথবা বিজয়ী হয়েছে তাদেরকে অচিরেই আমি বড় প্রতিদানে ভুষিত করব।” (নিসা- ৭৪)
শাহাদাাত এমন এক সিড়ি যার প্রতিদান হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি, ক্ষমা, রহমত ও চিরস্থয়ী আবাস্থল জান্নাত । এ ব্যাপারে আল্লাহর ঘোষণা , “যারা হিজরত করে এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে শহীদ হয় আল্লাহর পক্ষথেকে তাদের জন্য রয়েছে বড় মর্যদা। তাদের রব তাদের জন্য রহমত, ক্ষমা, সন্তুষ্টি ও নেয়ামতপূর্ণ স্থায়ী আবাসনের সুসংবাদ দিয়েছে তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। (তওবা- ২০-২২)
শাহাদাতের জন্য শুধু পরকালে জান্নাতই থাকবে না কবর জীবনেও রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ মেহমানদারির ব্যবস্থা। আল্লাহর ভাষায়, “ যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছে তাদেরকে তোমরা মৃত হলোনা বরং তারা জীবিত এবং তাদের প্রভুর পক্ষথেকে তাদেরকে মেহমানদারি করানো হয়। (বাকারা- ১৫৪) (চলবে)
এভাবে তিনি সূরা আছ্ ছফ-এ আল্লাহর রাস্তায় নিজের জান-মাল বিলিয়ে দেয়াকে এমন এক ব্যবসার সাথে তুলনা করেন যা শাহীদদের জাহান্নামের কঠিন আযাব থেকে রক্ষা করে চিরস্থায়ী শান্তির নীড় জান্নাতে প্রবেশ করাবে। এছাড়া সূরা নিসার ৯৫ ও ৯৬ নং আয়াতে যারা আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হন তাদেরকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন সেইসব লোকদের উপর যারা বিনা ওজরে আল্লাহর রাস্তায় ঝাপিয়ে পড়ে না।
অপরদিকে আমরা যদি রাসূল (সাঃ)-এর জীবনের দিকে তাকাই তাহলে দেখব যে, তিনি কাফেরদের বিরুদ্ধে অসংখ্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তাতে অসংখ্য সাহাবা শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করে জান্নাতবাসী হয়েছেন।
শাহাদাতের গুরুত্বের ব্যাপারে তিনি বলেছেন, “আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-এর উপর ঈমান আনায়নের পরই আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়া সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ”। (বুখারী)
আবু হুরায়রা থেকে বুখারী-মুসলিম)
ইবনে মাসউদ থেকে অন্য হাদিসে এসেছে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে শহীদ হওয়া আল্লাহর নিকট প্রিয় আমলের অন্তর্ভূক্ত। (মুত্তাফাকুন আলাইহি)
একবার একজন লোক রাসূল (সাঃ)-এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলেন, “সর্বশ্রেষ্ঠ মানব কে? জবাবে তিনি বললেন এমন মুজাহিদ যিনি নিজের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে।” (মুত্তাফাকুন আলাইহি)
শাহাদাতের অমীয়সূধা পান করার জন্য তিনি শুধু সাহাবীদেরকে উৎসাহিত করেছেন এমন নয়। তিনি নিজেও সর্বদা শাহাদাতের তামান্নায় উদ্বেলিত থাকতেন। সর্বদা তিনি শহীদি মৃত্যু কামনা করতেন।
তাইতো শাহাদাতের অদম্য স্পৃহায় তিনি বলতেন, “সেই সত্ত্বার শপথ যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, আমি যেন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করি এরপর শহীদ হই, আবার জিহাদ করি আবার শহীদ হই, আবার জিহাদ করি আবার শহীদ হই।” (আবু হুরায়রা থেকে মুসলিম)
জিহাদের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন,“আমি কী তোমাদেরকে সকল কাজের মূল, কান্ড ও সর্বোচ্চ চূড়ার কথা বলব না? সাহাবীরা বলেন, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বলেন সকল কাজের মূল হলো ইসলাম আর এর কান্ড হলো সালাত এবং সর্বোচ্চ চূড়া হলো আল্লাহর রাস্তায় প্রাণ বিসর্জন।” ( মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে তিরমিযি)
শাহাদাতের মহত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, নিশ্চয় তরবারির ছায়াতলেই রয়েছে জান্নাত।” (আবু বকর ইবনে আবু মুসা থেকে মুসলিম)
উহুদ যুদ্ধের সময় উমাইর ইবনে হুমাম আল আনসারী সাহাবী খেজুর খাচ্ছিলেন, রাসূল (সঃ) আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়ার গুরুত্ব বর্ণনা করছিলেন এমন সময় সাহাবী বললেন আমি যদি শহীদ হই তাহলে আমি কোথায় যাব? রাসূল (সাঃ) বললেন, জান্নাতে মূহুর্তের মধ্যেই সে খেজুর ফেলে দিয়ে জিহাদে শরীক হয়ে শাহাদাত বরণ করলেন। (জাবের থেকে মুসলিম)
একদিন রাসূল (সাঃ) জিহাদের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে বনী লিহযান গোত্রেকে বললেন, “প্রত্যেক দু‘জনের মধ্যে একজনকে জিহাদে গমন করতে হবে তবে পূণ্য তারা দু‘জনই পাবে।” (আবু সাইদ খুদরী থেকে মুসলিম)
শাহাদাতের তাৎপর্য এতোই বেশী যে, “কেউ যদি শাহাদাতের তামান্না নিয়ে নিজের ঘরেও মৃত্যবরণ করে তাহলে ও সে শহীদ হিসেবে গণ্য হবে।” (সাহল ইবনে হুনাইফ এবং আনাস থেকে মুসলিম)
শাহাদাত মুমিন জীবনের অবিছেদ্য অংশ, প্রকৃত মুমিনতো তারই যারা শাহাদাতের অমীয়সূধা পানে সর্বদা প্রস্তুত। প্রস্তুত জীবনবাজি রেখে আল্লাহর যমীনে আল্লাহর সংবিধান প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায়।
শাহাদাতের মর্যাদা
পবিত্র কোরআনে ও হাদীসে শাহাদাতের যে সর্যদার কথা বলাহয়েছে তা থেকে চুলপরিমানও পিছপা হয়ে একজন মুমিন কখনো শাহাদাাত ব্যতিত অন্য মৃত্য কামনা করতে পারে না। শাহাদাত হলো মুমিন জীবনের চরম চাওয়া ও পাওয়া।
পবিত্র কুরআনে বলেছে, “যারা আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাত বরণ করেছেন তারেদ জন্য রয়েছে মহান পূরস্কার” (আলে-ইমরান- ১৭২)
অন্যত্র শাহাদাতের মর্যদা বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, “তারা যদি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয় অথবা মৃত্যবরণ করে তাহলে তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে ক্ষমা ও রহমত।”(বাকারা-১৫৪)
আল্লাহর রাস্তায় শহীদগণের জন্য তিনি জান্নাত অবধারিত করে দিয়েছেন। এমন মর্যাদা শুধু তাদের ভাগ্যেই জুঁটবে যারা জীবনের সকল মায়া-মহবক্ষত ত্যাগ করে নিজেদেরকে আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিবেন। আল্লাহর ঘোষণা, “তাদের প্রভু তাদেরকে এই বলে সাড়া দিয়েছেন যে, আমি তোমাদের পুরুষ বা মহিলা কারো শ্রমের বিনিময় নষ্ট করব না। তারা তো ঐ সব লোক যারা হিজরত করেছে এবং তাদেরকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে এবং তারা আমার রাস্তায় লড়াই করে শহীদ হয়ে আমি তাদেরকে সকল গুনাই অবশ্যই ক্ষমা করব এবং তাদেরকে বহমান নদী বিশিষ্ট জান্নাতে প্রবেশ করাব।” (আলে-ইমরান- ১৯৫)
অপর স্থানে আল্লাহ বলেন, “যারা আখেরাতকে দুনিয়ার বিনিময় ক্রয় করছে এবং শহীদ হয়েছে অথবা বিজয়ী হয়েছে তাদেরকে অচিরেই আমি বড় প্রতিদানে ভুষিত করব।” (নিসা- ৭৪)
শাহাদাাত এমন এক সিড়ি যার প্রতিদান হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি, ক্ষমা, রহমত ও চিরস্থয়ী আবাস্থল জান্নাত । এ ব্যাপারে আল্লাহর ঘোষণা , “যারা হিজরত করে এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে শহীদ হয় আল্লাহর পক্ষথেকে তাদের জন্য রয়েছে বড় মর্যদা। তাদের রব তাদের জন্য রহমত, ক্ষমা, সন্তুষ্টি ও নেয়ামতপূর্ণ স্থায়ী আবাসনের সুসংবাদ দিয়েছে তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। (তওবা- ২০-২২)
শাহাদাতের জন্য শুধু পরকালে জান্নাতই থাকবে না কবর জীবনেও রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ মেহমানদারির ব্যবস্থা। আল্লাহর ভাষায়, “ যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছে তাদেরকে তোমরা মৃত হলোনা বরং তারা জীবিত এবং তাদের প্রভুর পক্ষথেকে তাদেরকে মেহমানদারি করানো হয়। (বাকারা- ১৫৪) (চলবে)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন